বকেয়া চেয়ে অলিম্পিক সিমেন্টের শ্রমিকদের মিছিল, সড়ক অবরোধ

বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন অলিম্পিক সিমেন্টের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ছবি: আগামীর সময়
বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন গত সপ্তাহে বন্ধ হয়ে যাওয়া অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
আজ রবিবার সকালে নগরীর রুপাতলী এলাকায় কারখানার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। গ্যাস টার্বাইন এলাকা হয়ে রূপাতলী গোলচত্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেটি।
সকাল ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বর আটকে হয় সমাবেশ। অংশ নেন প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। তারা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দার। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। বকেয়া না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা শ্রমিক প্রতিনিধিদের। সেখান থেকে দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত না আস ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বললেন, ‘শ্রমিকরা বকেয়া ভাতা দাবি করছেন। আর কারখানার মালিক টাকা না দিয়ে দুবাই গিয়ে বসে আছেন। সিমেন্ট, বালু খেয়ে শ্রমিকরা কারখানাকে দাঁড় করিয়েছেন। তাদেরই পাওনা টাকা দিতে চান না, আপনারা কি মানুষ?’
গত ১১ জুন রাতে এক নোটিশে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়- ১৩ জুন থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে অলিম্পিক সিমেন্টের কারখানাটি। তাতে বলা হয়, ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল এবং ডলার-এলসি সংকটে এই সিদ্ধান্ত।
কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে এর কয়েকদিন আগে আন্দোলন করেছিলেন বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা। তিনি বলছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে বলে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত।
মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে এসব শ্রমিককে কাজে নিযুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে, যোগ করেন মনীষা চক্রবর্তী।





