বিশ্বকাপে ব্যর্থতার সাজা, উরুগুয়ে দলের বিশেষ বিমান বাতিল!

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর উরুগুয়ে ফুটবল দলে যেন ঝড় বইছে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করার ‘শাস্তি’ হিসেবে ফুটবলারদের জন্য নির্ধারিত চার্টার্ড বা বিশেষ বিমানটি বাতিল করেছে উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশন (এইউএফ)। মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে দলের সব সদস্যকে একসঙ্গে রাজধানী মন্টেভিডিওতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘এল পাইস’ এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘টেনফিল্ড’-এর খবর অনুযায়ী, মেক্সিকো থেকে পুরো স্কোয়াডকে দেশে ফেরানোর জন্য চাটার্ড ফ্লাইট বাতিল করেছে এইউএফ। এখন সাধারণ যাত্রীদের মতো টিকিট কেটে কমার্শিয়াল ফ্লাইটে আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে দলটির তারকা ফুটবলারদের। কেউ ফিরবেন দেশে, কেউ যাবেন নিজ নিজ ক্লাবে।
গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে অনায়াসেই উরুগুয়ে পরের রাউন্ডে যাবে—এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু সৌদি আরব ও নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে তারা অবিশ্বাস্যভাবে ড্র করে বসে। এরপর গুয়াদালাহারায় স্পেনের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৪২ মিনিটে গোলরক্ষকের এক মারাত্মক ভুলে গোল হজম করে। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের সেই পরাজয়ে ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল পরাশক্তি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এইচ’ গ্রুপ থেকে নকআউটে জায়গা করে নেয় স্পেন ও কেপ ভার্দে।
ম্যাচ শেষেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন উরুগুয়ের ৭০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। উগ্র মেজাজে ব্রডকাস্টারদের দিকে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসে বেশ ভেঙে পড়েন এই অভিজ্ঞ কোচ, ‘আমি উরুগুয়ের ফুটবলের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারিনি। তিন বছর একটা দেশে কাজ করার পরও যদি কোনো ফলাফল এনে দিতে না পারি, তবে সেই কোচিংয়ের কোনো মূল্য থাকে না। যদি প্রশ্ন করা হয় আমার সময়টা কীভাবে মনে রাখা হবে— আমি বলব, আমি উরুগুয়েকে কিছুই দিতে পারিনি।’
২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক উরুগুয়ে। ঘরের মাঠে সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের আগে এখন নতুন কোচের সন্ধানে নামতে হচ্ছে উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনকে। তবে তার আগে, মাঠের ব্যর্থতার পর ফেডারেশনের এই বিমান বাতিল করার সিদ্ধান্ত ড্রেসিংরুমে তৈরি করেছে চরম অসন্তোষ। দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহ্যবাহী এই দলটির জন্য চাটার্ড ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা অপমানজনক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






