মৃত শিশুদের সুরতহালে হামলার শিকার দুই পুলিশ, পরে প্রত্যাহার

নাটোরে মৃতদেহের সুরতহালে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে নদী থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার দুই শিশুর সুরতহালে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন থানা পুলিশের এসআই ও এক কনস্টেবল। ‘দায়িত্ব অবহেলার’ কারণ দেখিয়ে পরে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা হলেন, গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার ও কনস্টেবল মো. রাকিব।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াবদা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকালে এলাকার নন্দকুজা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় ফারহান ইসলাম (৭) ও লাম হোসেনের (৮) মরদেহ। ফারহান ওই এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে ও বাবলু হোসেনের ছেলে লাম।
স্থানীয় লোকজন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশের নদীতে শিশু দুটি গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্রোত ভেসে তলিয়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলে থাকা অর্জুন হালদার নামে এক ব্যক্তি তা দেখে শিশুদের উদ্ধারে নদীতে নামেন। আশপাশের লোকজন খবর দেয় ফারহান ও লামের বাড়িতে।
দুই শিশুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি সেসময় জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।
দুই শিশুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় মৃতদের জানাজার প্রস্তুতির সময় তদন্তে আসেন এসআই বাশার ও কনস্টেবল রাকিব। তারা দুই শিশুর সুরতহাল করতে গেলে স্বজন ও এলাকার লোকজন বাধা দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বললেন, ‘বাদ মাগরিব স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে শিশুদের জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এসময় দুজন পুলিশ এসে শিশুদের কাফনের কাপড় খুলে তদন্ত শুরু করেন। এতে উপস্থিত স্বজনরা বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করবে বলে জোর দাবি জানান।
তর্কের একপর্যায়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই পুলিশ। তাদের মারধর করে পাশের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এসবও জানান ওই যুবক।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানালেন, ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পরে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালনে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশকে প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে তার ভাষ্য, ‘ওই শিশু দুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। জানাজা শুরুর আগ মুহূর্তে তারা (দুই পুলিশ) সেখানে সুরতহাল করতে যায়। এলাকার লোকজনকে তারা বোঝাতে সক্ষম হয়নি। তাদের দায়িত্বে গাফিলতি ছিল। এ কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’








