মাদ্রাসার জমির বিরোধের তদন্তে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৭

কোম্পানীগঞ্জ থানা— সংগৃহীত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভূমি বিরোধের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোড এলাকার হাবা সফিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিউদ্দিন এবং কনস্টেবল মো. ইছাক, মো. ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন। তারা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মানিক মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করেছেল দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার। ওই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, এসআই আরিফ মহিউদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় অভিযোগকারী পক্ষ ফোন করে জানায়, বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা আবার সেখানে গিয়ে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যদের আহত করা হয়।
পরে হামলায় জড়িত সন্দেহে ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও বোবা জাবেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
তবে গ্রেপ্তারদের স্বজন মো. বাবুল পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘পুলিশ বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আমার শার্টের কলার ধরে। এরপর বাড়ির নারীদের মারধর করে। এরপর নারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সড়কে থাকা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুজন পুলিশের হাতে হালকা আঘাত লাগে।’
পুলিশের ভাষ্য, দারুল ইহছান মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে মৌরসি স্বত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ জায়গাটি ক্রয়সূত্রে নিজেদের মালিকানাধীন বলে দাবি করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ বললেন, ‘তদন্তে গিয়ে আমিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাৎক্ষণিক নারীসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এদিকে, ঘটনার পর দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।





