‘গরুর লাঙলের জাগাত মেশিন আসলেও ছাওয়ালপাওয়ালের আনন্দ আগের মতোই’

ট্রাক্টরের পেছনে ঘুরে মাছ ধরছে শিশুরা— আগামীর সময়
উত্তরের শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরে এখন আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এজন্য ব্যবহার হচ্ছে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার। বর্ষায় নিচু জমিগুলোতে পানি জমায় এখন মিলছে দেশি মাছ।
তাই পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ শুরু হলেই গ্রামের শিশুরা নেমে পড়ছেন কাদামাখা জমিতে। টিলারের পিছনে ছুটে ধরছেন দেশি বিভিন্ন জাতের মাছ। দীর্ঘ সময় ধরে টিলারের পিছনে ছুটেও শিশুদের চোখে-মুখে নেই ক্লান্তির কোনো ছাপ। আছে কেবল অফুরন্ত আনন্দ আর মাছ পাওয়ার তুমুল প্রতিযোগিতা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। জেলার পার্বতীপুরের কৃষক মোহসিন জানান, হামরা যখন ছোট আছিনু, তখনো এইংকা করিয়া মাছ ধরছি। এলা দিন বদলাইছে, গরুর লাঙলের জাগাত মেশিন আইছে। কিন্তুক ছাওয়ালপাওয়ালের এই আনন্দটা এক্কেবারে আগের মতোই আছে।
মাছ ধরায় ব্যস্ত ১০ বছর বয়সী শিশু রোকন জানায়, টিলার গাড়ির চাকার পাকে পাকে মাছগুলা এক্কেবারে উপারত (উপরে) ভাসি ওঠে। হাত দিয়াই ধরি ফেলা যায়। আজক্যা অনেকগুলা পুঁটি আর দুটা বড় টাকি মাছ পাইছি।
যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন শহরের শিশুরা চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকছে, তখন দিনাজপুরের পল্লী গাঁয়ের এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সাথে গ্রামীণ শৈশবের নাড়ির টান। কাদামাখা শরীরে শিশুদের এই নিখাদ আনন্দ যেন গ্রামীণ বাংলার এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা শত পরিবর্তনের মাঝেও টিকে আছে আপন মহিমায়।





