পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খুলে নতুন ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১০টি দানসিন্দুক ও ৩টি ট্রাঙ্ক খুলে গণনা শেষে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।
প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী টানা গণনা শেষে শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ।
এবারের দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ছয় মাস ধরে জমা হওয়া দানের এই বিপুল অঙ্ক আবারও প্রমাণ করেছে দেশের অন্যতম আলোচিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস, আস্থা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একে একে খোলা হয় ১০টি দানসিন্দুক ও ৩টি ট্রাঙ্ক। সিন্দুকগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে ৪৩ বস্তা ভর্তি নগদ টাকা। পরে সেগুলো বস্তাবন্দি করে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে শুরু হয় গণনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল আয়োজন চলে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত। টাকা গোনা, যাচাই-বাছাই ও হিসাব সংরক্ষণের কাজ শেষে রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মোট দানের পরিমাণ ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।
গণনার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ এবং রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই বিশাল গণনা কার্যক্রমে অংশ নেন প্রায় ৬৫৮ জন। এর মধ্যে ছিলেন ৪০৬ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৫ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ১৬ জন র্যাব সদস্য, ৩৫ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য, ১০ জন আনসার সদস্য, ৪ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং ১৩০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় গণনার পুরো প্রক্রিয়া।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মানত, কৃতজ্ঞতা ও নানা উদ্দেশ্যে এই মসজিদে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, রুপা, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। এসব দানের অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, এতিম ও অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
এর আগে সর্বশেষ দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল তিন মাস ২৭ দিন পর। তখন ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায় এবং গণনা শেষে দানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। পাশাপাশি মিলেছিল স্বর্ণ, রুপা, সৌদি রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। এবার নিয়মিত তিন মাসের পরিবর্তে প্রায় ছয় মাস পর দানসিন্দুক খোলা হওয়ায় শুরু থেকেই দানের পরিমাণ নিয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক।
এর আগে জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানিয়েছিলেন, পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১১৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এবার নতুন করে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার বেশি যুক্ত হওয়ায় মসজিদের দানের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক যুক্ত হলো।




