কৃষিসেবা অ্যাগ্রোর জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্য ৫০ টন
- পরিবেশ সুরক্ষা ও মাটির উর্বরা বাড়ায়
- রাসায়নিক সার নির্ভরতা কমায়
- বাড়তি আয় ও কর্মসংস্থান
- সীমিত পুঁজিতে বেশি লাভ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চুরখাই এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছে কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মস। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মাসে প্রায় ১৫ টন জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে ৪০-৫০ টনে উন্নীত করা।
ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট পরিসরে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রচলন থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে এ সার তৈরির উদ্যোগ এখনো তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতিতে চুরখাইয়ের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জৈব সারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল আলম রাজীবের ভাষায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে তাদের দুই একরের বেশি কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে আগে সবজির চাষ হতো। চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সারও তৈরি করা হতো ওই জমিতে। একপর্যায়ে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত সার বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার চিন্তা থেকে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। এজন্য ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মীকে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগে তাকে উৎসাহ ও পরামর্শ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ওই বছরের ডিসেম্বরে বগুড়া থেকে ১০ কেজি কেঁচো এনে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন রাজীব। তার হিসাবে, এ সার তৈরি হতে গড়ে ৪৫ দিন সময় লাগে।
সাধারণত কৃষকরা চৌবাচ্চায় ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন। তবে কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মসে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের ক্যারেট। রাজীবের দাবি, এ পদ্ধতিতে কম জায়গায় তুলনামূলক কম সময়ে বেশি সার উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ৬০০ ক্যারেটে সার তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে টেবিল পদ্ধতিতেও উৎপাদন শুরু করেছেন তিনি।
উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিক্রিও। ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে মাসে ১০০-১৫০ কেজি সার বিক্রি হলেও এখন প্রতি মাসে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৫ টন। স্থানীয় কৃষকরাই মূলত এ সার কিনছেন। কৃষি বিভাগও এখান থেকে সার সংগ্রহ করছে। প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তায় সার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। তবে সরকারি অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদন পেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাইরেও সার বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে— জানালেন রাজীব।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। চুরখাই এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদের ভাষ্য, কৃষিসেবা অ্যাগ্রো ফার্মসে ভার্মি কম্পোস্টের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এখন সেখানে বাণিজ্যিকভাবে এ সার উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে এ সারের চাহিদা রয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভার্মি কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ।



