৭৮ লাখ টাকার স্টেশনে থামে না ট্রেন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক স্টেশন ভবন। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে; কিন্তু সেখানে থামে না কোনো ট্রেন। লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীসেবায় কাজে আসছে না সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি। অযত্নে পড়ে থাকা স্থাপনাটির মালপত্রও চুরি হচ্ছে।
রেলওয়ের তথ্য বলছে, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্টেশন ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাজ শেষ হলেও চালু হয়নি স্টেশনের কার্যক্রম। চালক ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে সুরমা মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই স্টেশনটি কার্যত অচল।
স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথের সাটিয়াজুরী স্টেশনটি চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারত। তাদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ, এ পথে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা। অথচ ঢাকা-সিলেট রেলপথে প্রতিদিন আন্তঃনগরসহ ছয় জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের কোনোটি সাটিয়াজুরীতে না থামায় আশপাশের এলাকার মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এ স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। তখন স্টেশনটি দিয়ে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি চা-সহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হতো। স্টেশনটি সচল হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও সুবিধা বাড়বে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রেনের সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্টেশনটি চালু করা যাচ্ছে না। সাটিয়াজুরী ‘ডি’ শ্রেণির স্টেশন। এখানে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও লুপ লাইন না থাকায় ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভবন নির্মাণ করা হলেও স্টেশনটিতে যাত্রীসেবা চালুর বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বললেন, ‘ইঞ্জিনস্বল্পতার কারণে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর থেকে সাটিয়াজুরী স্টেশনে কোনো ট্রেন থামে না।’
বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান হাবিবের ভাষ্য, এ রুটে সর্বশেষ সুরমা ট্রেন চলত। সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে স্টেশনটি বন্ধ। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কর্মচারীদের পদায়ন করা হয়।



