দাখিলের ফলের আগেই লাশ হয়ে ফিরল আসাদুল

মো. আসাদুল—ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র কয়েক দিন পরই প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল দাখিল পরীক্ষার ফল। আগামী ২০ জুলাই ফল হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না। ফল নয়, চার দিন পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো মো. আসাদুলকে।
বরগুনার তালতলীর শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ হওয়া দাখিল পরীক্ষার্থী আসাদুলের মরদেহ শুক্রবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়েছে। সৈকতের ডিসি পয়েন্টসংলগ্ন চরে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশে খবর দেন। পরে তালতলী নিন্দ্রা সকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত আসাদুল আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুছা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে। তিনি মানিকঝুড়ি মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গত সোমবার তিনি তালতলী উপজেলার এক ভগ্নিপতির বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বন্ধু জাকারিয়া, আতাউল্লাহ, শাওন ও সাগরকে নিয়ে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যান।
দুপুরে পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে তারা ভেসে যান। স্থানীয়রা দ্রুত চারজনকে উদ্ধার করলেও আসাদুলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।
ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার দুপুরে ডিসি পয়েন্টের চরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তালতলী নিন্দ্রা সকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র বললেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
এদিকে একই দিন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তালতলী উপজেলার মধ্য আমখোলা গ্রামের তপন জমাদ্দার ও ফুল মিয়ার দুটি ট্রলার ১৮ জন জেলেকে নিয়ে ইলিশ শিকারে সাগরে যায়। বিকালে ট্রলার দুটি ডুবে যায়।
পরদিন বুধবার সকালে একটি ফিশিং ট্রলার ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। তবে কালাম পাইকার ও শহীদুল খান নামে দুই জেলের এখনো খোঁজ মেলেনি।
তালতলী নিন্দ্রা সকিনা কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের কমান্ডার আশরাফুল আলম বললেন, ‘নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে চার দিন ধরে অভিযান চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
একদিকে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, অন্যদিকে দুই জেলের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে একমাত্র ছেলে আসাদুলকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার মা আসমা বেগম।




