সিলেটে ‘৭ কোটি টাকার’ প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ইমন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, জামিন নিতে আদালতে গেলে প্রতারণার শিকার কয়েকজন ব্যক্তি ইমনকে শনাক্ত করেন। পরে তারা তাকে আটক করে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিলেট নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’ নামের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইমন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও কানাডায় পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।
তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিসা প্রাপ্তির ভিডিও ও প্রচারণা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করত। মাত্র ১ হাজার টাকায় ভিসা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কানাডার ভিসা এবং সহজ শর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হতো।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি প্রায় ৭০০ তরুণ-যুবকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। এভাবে অন্তত ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
প্রতারণার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ১৯ মে ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’-এর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান ইমন ও তার সহযোগীরা। একই সঙ্গে তাদের পরিচালিত ফেসবুক পেজও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নজরে আনলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইমনের সহযোগী জাবের আহমদসহ চক্রের অন্য সদস্যরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ জানান, ‘এমেক্স এসোসিয়েটসের ইমন নামের একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে। অভিযোগের বাকি বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




