ধর্ম-বর্ণ নয়, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধর্ম, বর্ণ কিংবা পেশার ভিন্নতা নয়- বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান সুযোগ ও মর্যাদা পাবেন। কাউকে পেছনে ফেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবার সহযোগিতায় দেশ গড়তে চাই।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা প্রত্যেক মানুষকে তার দল বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। দেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার কম বা বেশি হতে পারে না।
তারেক রহমান বললেন, ‘এই দেশের মাটির ওপরে এই দেশে আপনার যেমন অধিকার আছে, ঠিক আমারও তেমনি অধিকার আছে। এই দেশে রাষ্ট্র আপনাকে যেই সুবিধা দেবে, ঠিক আমাকেও সেই সুবিধা দেবে।’
সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বার্তা দিতেই তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষ যে ধর্মেরই হোক, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব। এ জন্য তিনি সবার সমর্থন ও সহযোগিতা চান।
তিনি বললেন, ‘আমরা কাউকে পেছনে ফেলে রেখে আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।’
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই দেশেই বসবাসের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বললেন, দেশের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে হবে। তারেক রহমান আরো বললেন, নিজের ধর্মের মানুষদের যেভাবে দেখেন, অন্য ধর্মের মানুষদেরও সেভাবেই দেখতে চান। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন ও ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এই দায়িত্ব পালনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তিনি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চান। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রংপুর সফর করেন। সেখান থেকে একটি সামরিক বিমানে রাজশাহীতে আসেন। প্রথমে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন তিনি। এরপর রাজশাহী সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ অবস্থান করে নগরীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি রাজশাহী পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সেখানে গিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।






