আকস্মিক পানির চাপে ধসে গেছে ধুনটের শহরাবাড়ি স্পার বাঁধ

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার ধুনটে যমুনার আকস্মিক গ্রাসে শহড়াবাড়ি স্পারে আবারো ভয়াবহ ধ্বস নেমেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙনে স্পারের আরও প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাঁধের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার অন্তত ৬টি গ্রাম যমুনার গর্ভে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাস থেকেই বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ী স্পারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে দিকে শহড়াবাড়ি স্পারের মাঝখানে হঠাৎ করে পানির আঘাত হানে। এতে চোখের পলকেই প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। জলে যায় কোটি কোটি টাকা খরচে ব্লক দিয়ে নির্মিত কাঠামোটি।
এর আগে গত ১২ জুলাই স্পারের ৩০ মিটার অংশ ধসে যায়। এবারের ভাঙনের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাঁধের নিচের পরিবারগুলো ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত সময়ে বৈশাখী, রাধানগর, আটারচরসহ ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ইতিমধ্যেই উপজেলা মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। শহরাবাড়ী ঘাটের পশ্চিম এলাকায় ঈদগাহ মাঠ, স্কুল, মসজিদ ছাড়া প্রায় এক হাজার মানুষের ঘর আছে। নতুন করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় এই এলাকার মানুষের মধ্যে এখন তীব্র আতঙ্ক।
রানা ইসলাম নামে বাঁধের নিচের গ্রামের বাসিন্দা জানালেন, শহরাবাড়ী ঘাটের ১০০ মিটার পূর্ব দিকে নতুন চর উঠেছে। কয়েক বছর আগে জেগে ওঠা এই চরের কারণে পানি উত্তর ও পশ্চিম দিকে চাপ দেয়। এই চাপের কারণে গতবছর ভাঙন হয়েছিল। এবার ভাঙন এত তীব্র যে চোখের পলকে বাঁধ যমুনার গর্ভে চলে গেছে।
বাঁধের নিচে একটি পরিবার টিনের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছিলেন। বাড়ির গৃহিনী জান্নাতুল বললেন, আমাদের চারবার বাড়ি ভাঙছে। এরপর এখানে আছি প্রায় ২০ বছর ধরে। আর থাকা হলো না। গতকাল যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, রাতেও ভাঙছে। আতঙ্কে এখনও বুক কাঁপতেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বলছিলেন, শহরাবাড়ী ঘাটের পূর্ব দিকে কয়েক বছর ধরে বালু উত্তোলন করা হয়। এই বালু উত্তোলনের কারণে ঘাট রক্ষাকারী বাঁধের নিচে গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া নতুন ডুবোচরের কারণে এখানে পানির স্রোতের তীব্রতাও বেশি। এসব কারণে গত বছরেও ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এবার একেবারে বাঁধটাকেই ধসে দিয়েছে।
ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেছেন, শহরাবাড়ি স্পারে ভালোভাবে কাজ না করলে পুরো ধুনট গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, ২০০৩ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামে নির্মিত হয়েছিল এই স্পারটি। কিন্তু প্রতি বর্ষায় দফায় দফায় ভাঙনে ইতিমধ্যে সিসি ব্লকসহ স্পারের বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। স্পারটি পুরোদমে ধসে গেলে পুরো ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন হুমকির মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘন্টার যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় স্রোত চক্রাকারে বাঁধে আঘাত হানায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙনের কারণ হিসেবে পানির চাপের বিষয় উল্লেখ করেছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। তিনি বলেছেন, বগুড়ার অংশে উজানে যমুনা নদীর প্রশস্ততা প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার। আর শহরাবাড়ীর এই পয়েন্টে মাত্র ৮০০ মিটার প্রশস্ত। ফলে এখানে নদীর পানির চাপ এমনিতেই বেশি। আর ডুবোচরের কারণে এই পানির চাপ ঘুরে স্পারের নিচে আঘাত হানছে।
সমাধানের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানালেন, যমুনা নদী নিয়ে আমরা এক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। আশা করছি এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।




