লটকন চাষ: সুবহানের হাত ধরে ফিরেছে গারো পাহাড়ের ঐতিহ্য

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর হলদীগ্রামের কৃষক আব্দুল সুবহানের উদ্যোগে গারো পাহাড় অঞ্চলে বিলুপ্তপ্রায় লটকন চাষ আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করে তিনি নিজের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। তার সাফল্যে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
আব্দুল সুবহান ২০১৯ সালে নরসিংদী থেকে ৭০টি লটকনের চারা সংগ্রহ করে নিজের পতিত জমিতে রোপণ করেন। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই গাছে ফলন আসা শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ৭ থেকে ৭০ কেজি পর্যন্ত লটকন উৎপাদন হচ্ছে বলে তিনি জানান। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলনও বাড়ছে।
তিনি জানিয়েছেন, লটকন চাষ তুলনামূলকভাবে সহজ ও লাভজনক। জৈব সার ব্যবহার, ফল ধরার সময় সামান্য কীটনাশক প্রয়োগ, শুষ্ক মৌসুমে দুই থেকে তিনবার সেচ এবং ডালপালা ছাঁটাই ছাড়া তেমন বাড়তি খরচ বা পরিশ্রম লাগে না। এক একর জমিতে স্বল্প খরচে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলেও তিনি দাবি করেন।
কলমের চারা রোপণ করলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়, তবে বীজ থেকে উৎপাদিত চারায় ফল আসতে সাত থেকে আট বছর সময় লাগে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হচ্ছে। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ঢালু জমি, পরিত্যক্ত জমি এবং বসতবাড়ির আশপাশের ছায়াযুক্ত স্থান লটকন চাষের জন্য উপযোগী। নলকুড়া, কাংশা ইউনিয়নের হলদীগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন জানান, দেশীয় পুষ্টিকর ফল হিসেবে লটকন চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহ দিচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লটকনের ভালো বাজারমূল্য, কম উৎপাদন খরচ এবং সহজ পরিচর্যার কারণে গারো পাহাড় অঞ্চলে এ ফল চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আব্দুল সুবহানের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের বিকল্প আয়ের একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




