গলাচিপায় সার ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

সার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ থেকে বঞ্চিত আবেদনকারী ও বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেও তারা ডিলারশিপ পাননি।
অন্যদিকে, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যোগ্য ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত রবিবার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অভিযোগের ঝড় ওঠে।
বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম এবং হামলা-মামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাদের দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকে ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, গোলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হরিদেবপুর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী রফিক মেম্বারও ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বিএনপি করি। আমাদের সরকারও রাষ্ট্রক্ষমতায়। সঠিক নিয়মে আবেদন করার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে সারের ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছি, জানি না। অথচ ১৭ বছরে যাদের দাপটে ঠিকমতো ঘরে ঘুমাতে পারিনি, তারা আজকে সারের ডিলারশিপ পায়। এ কথা কার কাছে বলব?’
ডাকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাসান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর স্থানীয় পর্যায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথে গিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আজ সঠিক নিয়মে শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও সারের ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হলাম। এ কথা কার কাছে জানাব?’
বঞ্চিত আবেদনকারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে মনির সিকদার, পানপট্টি ইউনিয়নে আলতাফ হোসেন, ডাকুয়া ইউনিয়নে কবির ফকির, আমখোলা ইউনিয়নে আরিফুর রহমান, গোলখালী ইউনিয়নে আলাউদ্দিন সিকদার, চিকনিকান্দি ইউনিয়নে শামীম রেজা, গজালিয়া ইউনিয়নে শহিদুল ইসলাম এবং চর কাজল ইউনিয়নে আমিনুর রহমান ডিলারশিপ পেয়েছেন। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় রুবেল বলেন, ‘উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।’ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেও তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়েছেন।
গলাচিপা পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ইমরানও ফেসবুকে এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তার দাবি, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা যে দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের এভাবে বাদ দিলেন, এটা তাদের সঙ্গে বেঈমানি করা হলো না?’
গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার বলেন, ‘আমার যে দায়িত্ব ছিল, সেটা আমি গুছিয়ে জেলা কমিটিকে দিয়েছি। বাকি কাজ তারা করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।’
পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারের নীতিমালা ও পরিপত্র অনুযায়ী সবকিছু করছি। সেখানে কে কী করেন, তা তো আমরা জানি না।’
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার হাওলাদার বলেন, ‘সারের ডিলারশিপে যাদের নাম দেখি, তারা কখনো বিএনপি করেনি। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য এতটুকু সুবিধা থেকেও যদি বঞ্চিত হন, তাহলে এরা কীভাবে টিকে থাকবে?’
তবে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত আবেদনকারী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।



