চকরিয়ায় চারদিন ধরে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ, দুর্ভোগে বাসিন্দারা
- কোরবানির ঈদের একদিন আগে থেকে বর্জ্য অপসারণ করেনি কর্তৃপক্ষ

ছবি: আগামীর সময়
চারদিন ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ বন্ধ রয়েছে। গত বুধবার থেকে বাসাবাড়ির আবর্জনা নিচ্ছেন না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে পৌরশহরের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়া পৌরশহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়াপদা সড়ক, ভরামুহুরী সরকারি হাসপাতালের পেছনের সড়ক, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, নিউ মার্কেট, আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স, জনতা মার্কেট, সবুজবাগ রোড, পশু হাসপাতাল ও সমিতি মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ধারে ফেলা হচ্ছে পচা খাবার, দোকান ও গৃহস্থালির বর্জ্য। এই বর্জ্যের ওপর উড়ছে মশামাছি। ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ।
চকরিয়া পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর চকরিয়া পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। মাতামুহুরী নদীর তীরে এ পৌরসভার আয়তন ১৫.৭৭ বর্গ কিলোমিটার। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে।
চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের ব্যবসায়ীরা জানান, পৌরশহরে প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা রাতের মধ্যে ট্রাকে করে নেওয়া হয় শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কৈয়ারবিল ইসলামনগর ডাম্পিং স্টেশনে। কোরবানির ঈদের একদিন আগে থেকে বর্জ্য অপসারণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে শহরের অনেকগুলো সড়কে ছড়িয়ে আছে ময়লার স্তূপ।
চিরিংগা কাঁচাবাজারের লেবু বিক্রেতা নুরুল আজম বললেন, ‘প্রতিদিন এখানে লেবু বিক্রি করি। যেখানে বসি, ঠিক উল্টো পাশে একটি অস্থায়ী ডাস্টবিন রয়েছে। সেখান থেকে চারদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা অপসারণ করেননি। দুর্গন্ধ ও ভোগান্তিতে কোনো রকমে লেবু বিক্রি করছি। পৌরসভা নিয়ম মেনে কোনো কাজই করে না।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হোসেন অভিযোগ করলেন, ‘প্রতিদিন মৌসুমি ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এখানে বসার জন্য পৌরসভার ইজারাদার ও ফল ব্যবসায়ী সমিতিকে ১৫০ টাকা চাঁদা দিই। ময়লা অপসারণ পৌরসভার প্রধান কাজ। কিন্তু আজ চারদিন হলেও কর্তৃপক্ষ ময়লা সরায়নি।’
পথচারী আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ জানালেন, ‘চাকরির সুবাদে পৌরশহরে থাকি। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে শহরের কয়েকটি স্থান দিয়ে হাঁটাও যায় না। এখন কোরবানির ঈদ হলেও, অন্যান্য সময়ও পৌরসভা যথাসময় ময়লা অপসারণ করে না।’
চকরিয়া পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক আবুল কালাম বলেছেন, ‘মূলত বৃহস্পতিবার ময়লা অপসারণ হয়নি। অন্যদিকে শুক্রবার সরকারি বন্ধ ছিল। আজ থেকে ময়লা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার যুক্তি দিলেন, পৌরশহরে কয়েকটি টিম কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করেছে। হয়ত এ কারণে সাধারণ ময়লা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। আজকে রাতের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’








