শেরপুরে মহাসড়কে অবাধে চলছে অটোরিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বগুড়ার শেরপুর মহাসড়কে অটোরিকশা
বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কের ওপর অবাধে চলছে তিন হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার। এসব যানবাহনের অধিকাংশের নিবন্ধন নেই। চালকদেরও অনেকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে উল্টো পথে এসে মহাসড়ক পার হচ্ছে অটোরিকশা। অপ্রাপ্তবয়স্করাও এসব যান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে ধীরগতির অটোরিকশার সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটও।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেরপুর শহরের ধুনট মোড়, বাসস্ট্যান্ড, উপজেলা মোড় ও কলেজ রোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল করছে। ধুনট মোড় ও উপজেলা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্নে কয়েকটি অটোরিকশাকে বিপরীত দিক থেকে এসে মহাসড়ক পার হতে দেখা যায়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শামিম বললেন, ‘ধুনট মোড় ও উপজেলা মোড় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউটার্ন। ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন না থাকায় অটোরিকশাগুলো অনেক সময় উল্টো দিক দিয়ে এসে সড়ক পার হয়। এতে যানজট তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হয়। কখনো কখনো অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়ে।’
শেরপুর শহর রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন সমিতির সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান (লিটন) জানান, শেরপুর শহরে তিন হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশ চালকের প্রশিক্ষণ নেই। তাঁরা সড়কের নিয়মকানুনও ভালোভাবে জানেন না। ফলে সড়কে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বললেন, ‘হঠাৎ করে কেউ যেন রাস্তায় অটোরিকশা নিয়ে নামতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে প্রকৃত চালকদের কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুরে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতে অটোরিকশার ওপর মানুষের নির্ভরতা রয়েছে। অন্য অনেক পেশার তুলনায় অটোরিকশা চালানো সহজ হওয়ায় নতুন নতুন চালকও এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে দিন দিন এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে।
তবে মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচলের কারণে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এসব যানবাহনের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ইউটার্ন নেওয়া ও বিপরীত পথে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী, সড়কে বৈধভাবে যানবাহন চালাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন ও রাজস্ব কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা রয়েছে। ফলে এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে সারা দেশে থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় ৭৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ওই মাসে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন নিহত হন। এর আগে জুলাইয়ে ১৩১টি থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় ৯৪ জন এবং জুনে ১১২ জন নিহত হন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেছেন, ‘যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যান সার্ভিস লেন দিয়ে চলাচল করতে পারে। তবে অনেক জায়গায় সার্ভিস লেন না থাকায় এসব যান মূল সড়কে উঠে আসে। মহাসড়কের অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলোতে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা ও ধুনট ইউটার্নেও নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।’
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘শেরপুর শহর জনবহুল এলাকা। এখানে প্রচুর অটোরিকশা চলাচল করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উল্টো পথে চলাচল ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হবে। শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’
বগুড়া শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে অটোরিকশাকে লাল ও সবুজ দুই রঙে ভাগ করে এক দিন পরপর চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেরপুরেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। শেরপুরে তা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’



