৯ দিন পরে স্বামীর ভিটায় ফিরলেন মানিক পশারীর স্ত্রী

গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর স্ত্রী ও তার মেয়ে আফরোজা বেগম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার পরিবার আর্থিক অনটন, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা কীভাবে জীবন পরিচালনা করবেন এবং নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটিতে নিরাপদে বসবাস করবেন— তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর স্ত্রী ও তার মেয়ে আফরোজা বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী মারা যান। তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিরোজপুরে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। এ কারণে তাদের আগে গোপালগঞ্জে যে ভাড়া বাসায় থাকতেন, সেখানে ফিরে যেতে বলা হয়।
গোপালগঞ্জের বাসায় কিছুদিন থাকলেও আর্থিক সংকটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় এবং একমাত্র ছেলেও আগেই মারা যাওয়ায় বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গত ১ নভেম্বর ভাড়া বাসা ছেড়ে পিরোজপুরে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসেন তারা।
তবে পৈতৃক ভিটায় থাকার মতো উপযুক্ত ঘর নেই তাদের। বাড়ির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং মানিক পশারীর নিজস্ব কোনো পাকা ঘর না থাকায় বর্তমানে মেয়ের জামাইয়ের একটি ভাঙা টিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মানিক পশারীর স্ত্রী বলেছেন, ‘আমার স্বামীর পোতা আছে, আমি সেই জায়গায় থাকতে চাই। প্রশাসন ও সাংবাদিকরা সহযোগিতা করলে আমরা এখানে থাকতে পারব। তা না হলে আমাদের থাকার আর কোনো উপায় নেই। আমার আয়-রোজগার করার মতো কেউ নেই, ছেলেও নেই। অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। প্রশাসন আমাদের একটু খেয়াল করলে আমরা বাঁচার একটা উপায় পেতাম।’
মানিক পশারীর মেয়ে আফরোজা বেগম বলেছেন, ‘আমরা আর গোপালগঞ্জে যেতে চাই না। নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছি, এখানেই থাকতে চাই। গোপালগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকার বা ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমার মা প্রচণ্ড অসুস্থ। কিন্তু টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছি না, ওষুধও কিনতে পারছি না। জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের একটি ছোট চায়ের দোকান ছিল। সেটি দিয়েও এখন সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা চাই, প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক, যাতে নিজেদের ভিটায় নিরাপদে বসবাস করতে পারি।’
বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে মানিক পশারীর পরিবারের। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় এবং জীবিকা নির্বাহের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই তাদের। পৈতৃক ভিটায় নিরাপদে বসবাসের সুযোগ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।




