মৌলভীবাজারে জমির দ্বন্দ্বে ভাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫

গ্রেপ্তার পাঁচজন— সংগৃহীত
মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে আব্দুল মতিন (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাই, বোনসহ মূল পরিকল্পনাকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন নিহতের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও একাধিক মামলা চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজনকে নিয়োগ দেন। ২৮ জুন আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাবেন এ তথ্য আগে থেকেই জানতেন পরিকল্পনাকারীরা। সেই সুযোগেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার আদালতের উদ্দেশে রওনা হলে পরিকল্পনাকারীদের লোকজন তাকে অনুসরণ করে। পরে নির্জন স্থানে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ সদর উপজেলার সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশসংলগ্ন ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরে স্বামীর খোঁজে বের হয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের বাড়ির পূর্ব পাশে একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ৩০ জুন সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিপু কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।





