ধামরাই
টিনের ছাপড়াই এখন দুই স্কুলের শ্রেণিকক্ষ

চান্দখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা— আগামীর সময়
নতুন ভবন নির্মাণ হবে বলে ভেঙে ফেলা হয়েছে স্কুলের পুরোনো ভবন। কিন্তু বছর পার হলেও মেলেনি নতুন ভবনের বরাদ্দ। ফলে তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম আর বৃষ্টির পানির মধ্যেই টিনের অস্থায়ী ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলায় বিদ্যালয় দুটিতে আশঙ্কাজনক হারে শিক্ষার্থীও কমে যাচ্ছে।
ঢাকার ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের ১৪৪ নম্বর বাউজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫০ নম্বর চান্দখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাউজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি ভবনে চলছিল পাঠদান। তিন বছর আগে নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাসে ভেঙে ফেলা হয় পুরোনো ভবন। বিকল্প হিসেবে বিদ্যালয়ের পাশে ছোট দুই চালার টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ঘরের ওপর কোনো গাছপালা বা ছায়া নেই। সিলিংও দেওয়া হয়নি। ফলে প্রচণ্ড গরমে ফ্যান চললেও টিনের তাপে অতিষ্ঠ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী গরমের কারণে ক্লাসে বসতে চায় না। আবার সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালা বেয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। বাধ্য হয়ে ভেজা ও কর্দমাক্ত পরিবেশেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়।
বিদ্যালয়টির টয়লেটের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। এমন অব্যবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
একই ধরনের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে ১৫০ নম্বর চান্দখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। নতুন ভবনের প্রত্যাশায় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে টিনের ছাপড়া ঘরেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। প্রখর রোদে শ্রেণিকক্ষ অসহনীয় গরম হয়ে ওঠে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়।
ভবন সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে রয়েছে জমি সংকট। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ৩৩ শতাংশ জমির মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ দীর্ঘদিন ধরে অন্যের অবৈধ দখলে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক যুগে এসেও শিশুরা এমন অমানবিক পরিবেশে পাঠ নিচ্ছে। অথচ ধামরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একবারের জন্যও বিদ্যালয় দুটি সরেজমিনে পরিদর্শনে করেননি। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাখখারুল ইসলাম মিজান বলেছেন, ‘বিদ্যালয় দুটির ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছুটা আইনি বা টেকনিক্যাল জটিলতা রয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষককেরা বিষয়টি আমাকে সেভাবে জানাননি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন মন্তব্য করেন, ‘বিদ্যালয় দুটির এই চরম সংকটের কথা আমাকে আগে কেউ কখনো জানায়নি। বিষয়টি আগে জানলে অন্তত সাময়িকভাবে হলেও কিছু একটা ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধান করা যেত। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’





