তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেবাবঞ্চিত চরফ্যাশনের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ থাকায় দুলারহাট থানার আশপাশের কয়েক ইউনিয়নের মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। জনবল সংকট, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে, অভিযোগ স্থানীয়সেবা বঞ্চিতদের।
সরেজমিন দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ফটকে ঝুলছে তালা। চিকিৎসক, নার্স, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসিএমও) কিংবা অন্য কোনো কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। ফলে সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, শিশুদের টিকাদান, মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু থাকলে এলাকার শিশুদের নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সহজলভ্য হতো। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত ও দুর্গম এই অঞ্চলে সাপে কাটা রোগী কিংবা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সামান্য চিকিৎসার জন্যও রোগীদের চরফ্যাশন, ভোলা, বরিশালের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সুযোগ নিচ্ছে। বাধ্য হয়ে সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বললেন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু থাকলে আমাদের ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হতো না। এখন সামান্য চিকিৎসার জন্যও নেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গরিব মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সামছুর রহমান সোহেলের ভাষ্য, দুলারহাট ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত চালু না হলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে। উপকূলীয় পশ্চিমাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা থেকে আরও পিছিয়ে পড়বে।
এলাকার তাছলিমা বেগম জানালেন, আমাদের এলাকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অনেকদিন বন্ধ। বিরোধের জোর ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখানে তালা দিয়ে রাখে। এতে কষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের প.প. কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানালেন, কে বা কারা এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা লাগিয়েছে জানি না। তদন্ত করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেব।





