খুলনায় অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৪ জনের কারাদণ্ড

খুলনায় ব্যাংকে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, পাশাপাশি অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ইউসিবিএল ব্যাংকের খানজাহান আলী রোড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক গোলাম হোসেন, মেসার্স আলী অ্যান্ড সন্সের মালিক শাহাজাহান আলী চৌধুরী, জামানত প্রদানকারী মঞ্জুরুল আলম ও গোলাম রহমান। রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ইয়াছিন আলী। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক গোলাম হোসেনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আলী অ্যান্ড সন্সের মালিক শাহাজাহান আলী চৌধুরী, জামানত প্রদানকারী মঞ্জুরুল আলম ও গোলাম রহমানকে ৪০৯/১০৯ ধারায় ৫ বছর, ৪৬৮ ধারায় ৫ বছর এবং ৪৭১ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের সাজা পৃথকভাবে চলবে বলে আদালত সূত্র জানায়।
খুলনায় অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ২ ব্যাংক কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীর ৫ বছর কারাদণ্ড
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আদালত সূত্র জানায়, নগরীর খানজাহান আলী রোড শাখা ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১৯৯৯ সালে একটি হিসাব খুলে মেসার্স আলী অ্যান্ড সন্সের মালিক শাহাজান আলী লেনদেন করতে থাকেন। তিনি ২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্যবসা পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের যাবতীয় কাগজপত্র ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকায় পাঠায়। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আবেদন ঢাকা থেকে প্রত্যাখাত হয়ে খুলনায় ফিরে আসে। একই বছরের ১১ মার্চ অভিযুক্ত গোলাম হোসেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর তিনি প্রত্যাখান হওয়া আবেদনপত্রটি পুনরায় ঢাকায় পাঠান করেন। তিনি কোনো বিষয় যাচাই-বাছাই না করে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেন।
তার সুপারিশের ভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। ঋণের শর্তগুলো ঠিকমত মানা হয়েছে কিনা এ বিষয়টি ব্যবস্থাপক দেখেননি করেননি। ঋণ আবেদন সঙ্গে জামিনদার হিসেবে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলম ও শেখ গোলাম রহমান যে কাগজপত্রগুলো দাখিল করেছিলেন সব ছিল ভুয়া। ঋণের টাকা উঠানোর পর সাঠিকভাবে পরিশোধ না করায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. ছাদিকুর রহমান ২০০৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জামিনদারকে নোটিস করেন।
এ সময় গোলাম রহমান নামে এক ব্যক্তি ব্যাংকে এসে কর্তৃপক্ষকে জানান, ঋণ গ্রহণের জন্য যে সকল দলিলপত্র ও জামিননামা ব্যাংকে রয়েছে তা সম্পুর্ণ ভুয়া। যার সুদ আসলসহ ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা হয়েছে। ২০০৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এ ঘটনায় তৎকালীন ব্যাংকের ম্যানেজার ছাদিকুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি নালিশী দরখাস্ত করেন।
তিনি ঋণ গ্রহণে সহায়তা ও ঋণের অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অপরাধে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক গোলাম হোসেন, ঋণ গ্রহীতা শাহাজান আলী চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা এম এম মাজেদ, জামানত প্রদানকারী মঞ্জুরুল আলম ও গোলাম রহমান ও ভুয়া দলিল লেখক মো. শাহাজাহান আলীর নাম উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে দুদক অভিযোগের তদন্ত করে। ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।




