বাসাইল
১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ!

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর এলাকায় ১০ কোটি টাকার একটি ব্রিজ নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের ফালা।
চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে এই ব্রিজ নির্মাণে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া এলাকায় ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫ টাকা।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই ব্রিজ নির্মাণ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টার প্রাইজ রাতের আঁধারে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহার করে।
বাসাইলের শিহাব খান জানালেন, ১০ কোটি টাকার সরকারি প্রজেক্টে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার শুধু অনিয়মই নয়, এটি সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের শামিল। দায় এড়ানোর এই সংস্কৃতি আর অদক্ষতার পেছনে কারা জড়িত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা উন্মোচিত হবে? নাকি অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মাইজখাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়া বলেছেন, ‘আমরা ঘুমানোর পর রাত ১২টার পর ঠিকাদারের লোকজন কাজ করে। এলাকার লোকজন এ নিয়ে কথা বলার কারণে তাদের নামে চাঁদাবাজি মামলার হুমকি দিয়েছে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ব্রিজের নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার কথা বলছেন তারা।
এ ব্যাপারে বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে তারা কাজ করেছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ পেয়ে হাতেনাতে প্রমাণ দেখতে সরেজমিনে হাজির হন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেছেন, এ ধরনের অনিয়ম কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।




