নন্দিনীকে হত্যা ‘প্রতিবেশীর দ্বন্দ্বে’, পুুলিশের ওপর হামলায় দুই মামলা

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা মামলার আসামিকে নেওয়া হচ্ছে আদালতে। ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশু নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র (২২)। নন্দিনীর পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ৭ বছরের শিশুটিকে তিনি হত্যা করেছেন- জানাল পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে একটি এবং পুলিশের ওপর হামলায় দুটি মামলা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকালে এসব তথ্য দিয়েছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানিয়েছেন, নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত গতকাল মঙ্গলবার রাতে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। আসামি- বিধান এবং তার বাবা রনজিৎ ও মা সাবিত্রী। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিধান ও রনজিৎকে আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় বিধান স্বীকার করেছেন, আদালতেও দিয়েছেন জবানবন্দি- জানালেন এই কর্মকর্তা।
থানা পুলিশের তথ্য, নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধারের জেরে তৈরি সহিংস পরিস্থিতির ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে হয়েছে দুই মামলা। একটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে, অন্যটি সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের। ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে দুই কমিটি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত চার সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর পুলিশ সুপারের গঠন করা তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদিতমারীর ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে ভুট্টাক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় ৭ বছরের নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ।
স্থানীয় লোকজন ও মেয়েটির পরিবার জানায়, গত সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল সে। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মাটি খুঁড়ে বস্তার ভেতর পাওয়া যায় মরদেহটি। পুলিশ সেটি উদ্ধারে গেল শুরু হয় উত্তেজনা।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী বিধান শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পুলিশ তাকে আটকও করে। একপর্যায়ে বিধানের বাড়িতে আগুন দেয় গ্রামবাসী। তাকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয়।
এ সময় থানা পুলিশের ওপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, সোমবার রাতে শিশু নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে ওসি বিষয়টি আমলে নেননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান ও পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যান বিজিবি ও আনসারের সদস্যরাও। তাদের দেখে বেড়ে যায় গ্রামবাসীর উত্তেজনা। পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়িবহরে চলে ভাঙচুর। সাউন্ড গ্রেনেড মেরে গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন থানার ওসি-এসআইসহ অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানালেন, প্রতিবেশী দুই পরিবারে নানা ইস্যুতে ছিল দ্বন্দ্ব। এরই জেরে প্রতিবেশীর শিশুকন্যা নন্দিনীকে হত্যা করেন বিধান। তবে ধর্ষণ করেননি বলে দাবি তার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে ডাক্তারের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।








