প্রতিবেশীর ঘরে বস্তায় শিশুর মরদেহ, অভিযুক্তদের ঘিরে উত্তেজনা

বগুড়ার নিহত শিশু রাকা। প্রতিবেশীর ঘর থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার আদমদীঘিতে নিখোঁজ শিশু রাকার বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাত বছরের শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে প্রতিবেশী দম্পতিকে। এ সময় তাদের মারধর ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন এসব নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়া মহল্লায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা এটি। নিহত রাকা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। সাহেবপাড়া মহল্লার রায়হান আলীর মেয়ে সে। আটক দম্পতি হলেন আমজাদ হোসেন ও মোছা. বন্যা।
থানা-পুলিশ, রাকার পরিবার ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ঘটনার বর্ণনা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে প্রাইভেট পড়তে বের হয় রাকা। নির্ধারিত সময় ফিরে না আসায় প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবার। রাকা সেখানে পড়তে যায়নি বলে জানতে পারেন স্বজনরা। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুজি। সন্ধ্যায় থানায় জিডি করেন রাকার বাবা রায়হান।
এর মধ্যে রায়হানদের প্রতিবেশী আমজাদ-বন্যা দম্পতির আচরণে সন্দেহ হয় স্থানীয় লোকজনের। তাদের অভিযোগ, আমজাদ মাদকসেবী ও কারবারি। ঋণগ্রস্ত ছিলেন তিনি। তবে গতকাল বিকালের পর হঠাৎ প্রচুর বাজার ও পোশাক কিনে আনেন। এসব দেখে সন্দেহ হওয়ায় সন্ধ্যায় এলাকার কয়েক যুবক তার বাড়ি তল্লাশি করেন। একটি কক্ষে পোল্ট্রি ফিডের বস্তার ভেতর পাওয়া যায় নিথর রাকাকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন, আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন ও আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া।
আমজাদ ও তার স্ত্রী বন্যাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বের করে নেওয়ার সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে সান্তাহার প্রেসক্লাবের কয়েক সদস্য ও স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় রাত প্রায় ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তদের নেওয়া হয় আদমদীঘি থানায়।
আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।






