সাদ্দাম
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকার পতন হয়ে যেতে পারে

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে কথা বলছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম— সংগৃহীত
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেছেন, ‘মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে আছে, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। সরকার যদি এ সংকট নিরসনে আরও উদ্যোগী না হয়, তাহলে সরকার পতনও হয়ে যেতে পারে।’
আজ শুক্রবার দুপুরে জামালপুর শহরের লুইজ ভিলেজ পার্কে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বললেন, ‘এখানে যে ক্রাইসিসের কথা তারা দেখাচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সে ক্রাইসিস আমরা দেখি নাই। কিন্তু তখন তারা বলেছিলেন, যত সংকট আছে নির্বাচন দিলেই সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। নির্বাচনের পরে তো কোনো সংকটেরই সমাধান হয় নাই। নির্বাচনের আগের পাঁচ মাস আর পরের পাঁচ মাস হিসাব করে দেখা গেছে, খুনের রেশিও একই রকম আছে, ধর্ষণের রেশিও একই রকম আছে। চাঁদাবাজির রেশিও কয়েক গুণ লাফ দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, সিন্ডিকেট বৃদ্ধি পেয়েছে।’
সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা প্রশাসনিক দপ্তরে অযোগ্য লোককে বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে যোগ্যতার মূল্যায়নের সদিচ্ছা তাদের নেই। ফলে সংকট আরও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন সরকার সিন্ডিকেট বন্ধ করতে পারে না, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, বাণিজ্যিক অনিয়ম বন্ধ করতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সংকটগুলো মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তেল-গ্যাসের সংকটও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এটাকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব বলেই মনে করি।’
বিরোধী দলগুলোর প্রস্তাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সাদ্দাম বলেন, ‘বিরোধী দল যখন সংকট নিরসনের প্রস্তাবনা দিচ্ছে, তখন তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে, নানাভাবে ফ্রেমিং করা হচ্ছে। আন্দোলনের কথাগুলো বলা হচ্ছে। পুরাতন ৭১-এর কথাগুলো নিয়ে আসছে। জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট ছিল, সরকার সেটার কোনো মূল্যায়ন করছে না। সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল পারস্পরিক বসার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোগান্তি নিরসনের পথ বের করতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
এর আগে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে জাবিপ্রবির প্রায় দুই শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে উপহার হিসেবে পবিত্র কোরআন শরিফ, কলেজ ব্যাগ, কলমদানি, চাবির রিং, কলম, ইসলামিক বই ও দোয়ার স্টিকার তুলে দেওয়া হয়।
জাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।







