প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষে বাড়বে কর্মসংস্থান: ড. খন্দকার মারুফ

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা দাউদকান্দিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলেছেন অ্যাভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ছবি: আগামীর সময়
প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষের দাউদকান্দি মডেল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এ পদ্ধতি চালু হলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা আসবে।
আজ রবিবার ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ‘প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষের এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। বর্ষাকালে প্লাবিত কৃষিজমিতে প্রায় ছয় মাস মাছ চাষ করা হয়। বর্ষা শেষে কৃষকেরা মাছ ধরে বিক্রি করেন। এরপর একই জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে মাছ ও ধান উৎপাদন সম্ভব হয়।’
তিনি জানান, ‘প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ, দাউদকান্দি মডেল’ পদ্ধতিটি ২০০৪ সালে সরকারি স্বীকৃতি পায়। পরে মৎস্য অধিদপ্তর এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়। এ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে এরইমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেছেন, ‘এ মৎস্য চাষ পদ্ধতির উদ্ভাবক বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার লেখা ‘প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ, দাউদকান্দি মডেল’ বইটি মৎস্য অধিদপ্তরে গাইড বই হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আরও বলেছেন, ‘নতুন করে এ পদ্ধতি চালু করা হলে দেশের মৎস্যের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষক পরিবারের আয় বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক পরিবারের সচ্ছলতা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষক কার্ড প্রদান করছেন। মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও কৃষিকাজে সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ‘প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ’ পদ্ধতি পুরোদমে চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দাবি করেন তিনি।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন জানান, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও মৎস্যচাষিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি কারেন্ট জাল ও চায়না জাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতৃত্ব দেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। পরে উপজেলা কমপ্লেক্সের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। এ সময় সফল মৎস্য উদ্যোক্তা ও চাষিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দাউদকান্দির ইউএনও নাহিদ আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী, দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে এম শামসুল হক, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী ও দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রোমান খন্দকারসহ অন্যরা।







