শরণখোলা
নিখোঁজের তিন দিন পর খালে মিলল শিশুর মরদেহ, আটক ৫

নিহত রাফি আকন
বাগেরহাটের শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হয়েছে রাফি আকন (৯) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাবাদের জন্য এক নারীসহ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। দুপুরে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খাঁন।
পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে রাফিককে। এমনটা ধারণা পুলিশেরও।
নিহত শিশুটি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জসিম আকন ও লাকি বেগম দম্পত্তির ছেলে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর বাবা ও দাদা-দাদির কাছে থাকত রাফি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে এক প্রতিবেশী খালে গোসল করতে গেলে তার নাকে পচা গন্ধ ভেসে আসে। এ সময় কচুরিপানার মধ্যে শিশুটির হাত দেখতে পেয়ে পরিবারকে জানিয়েছেন। পরে পরিবারের লোকজন মরদেহটি শিশু রাফির বলে শনাক্ত করেন।
শিশুর বাবা জসিম আকন অভিযোগ করে বলেছেন, রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়। আমার ছেলে সাঁতার জানত, খালে পড়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে।
শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খাঁন বলেছেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসবে।



