রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে কুষ্টিয়া মেডিকেলে সংঘর্ষ

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: আগামীর সময়
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির নাম আতিয়ার শেখ (৬৫)। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শাওতা গ্রামে।
পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর স্বজনরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় আতিয়ারকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা ইসিজি করানোর পরামর্শ দেন। তবে ইসিজি করানোর প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। এতে চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। প্রথম দফার এ উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা চত্বরে জড়ো হন। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়ার পরপরই রোগীর মৃত্যু ঘটে। প্রতিবাদ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং কয়েকজনকে মারধর করেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন জানান, রোগী অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মারা যান। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না। চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। রোগীর স্বজনদের মারধরে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রাতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




