অকেজো স্লুইসগেটে ডুবছে ঘরবাড়ি, নষ্ট হচ্ছে ফসল

ছবি: আগামীর সময়
কৃষি সেচের সুবিধার জন্য ১৯৯৬ সালে নির্মিত স্লুইসগেটটি এখন উল্টো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মানুষের।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইছড়ি বাজারসংলগ্ন নুনছড়ি ছড়া বা ঝর্ণার ওপর নির্মিত হয়েছিল স্লুইসগেটটি।
এ গেটের কারণে ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে আশপাশের অন্তত ৬০-৭০টি ঘরবাড়ি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও ফসল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের পর কয়েক বছর সেচ সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে গেটটি। এখন গেটটির আশপাশে গড়ে উঠেছে বসতি। নুনছড়ি ছড়া দিয়ে ভেসে আসা মৃত গাছপালা, লতাপাতা ও প্লাস্টিক গেটের মুখে আটকে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে পানিপ্রবাহে। ফলে সামান্য বা ভারী বৃষ্টিতেই প্লাবিত হচ্ছে আশপাশের এলাকা। কৃষিজমি পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে ফসল।
মাইছড়ি বাজারের বাসিন্দা মো. দিদার আলম জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির সময় ছড়া দিয়ে ভেসে আসা গাছপালা স্লুইসগেটে আটকে গেলে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। এতে তার বাড়িসহ পানিতে তলিয়ে যায় অন্তত ৬০-৭০টি বাড়ি। এমনকি ডুবে যায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একটি অংশও। পরে পানির চাপ কমে এলে নিজ উদ্যোগে গেটটি পরিষ্কার করেন তিনি।
স্লুইস গেটসংলগ্ন মাইছড়ি বিলের কৃষক সাথোয়াই মারমা, মো. রফিক ও সেকান্দার হাওলাদার জানালেন, গেটে ভেসে আসা গাছপালা আটকে গেলে পানির স্রোত কৃষিজমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ধানের বীজতলা, রোপণ করা ধানসহ ক্ষতি হয় বিভিন্ন ফসলের।
তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর এ সমস্যার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্লুইসগেটটির দুটি দরজার মাঝখানে একটি দেয়াল রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মাঝের দেয়ালটি অপসারণ করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং অনেকটাই কমে যাবে জলাবদ্ধতার সমস্যা।
মাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজাই মারমা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘স্লুইসগেটের বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। কয়েক দিন আগে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভাতেও বিষয়টি তুলে ধরেছি।’
অকেজো হয়ে পড়া স্লুইসগেটটির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




