দীঘিনালার হাজাছড়া বিলে লাল শাপলার মেলা

দীঘিনালার হাজাছড়া শাপলা বিলজুড়ে ফুটেছে লাল শাপলা। ছবি: আগামীর সময়
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার হাজাছড়া শাপলা বিলজুড়ে ফুটেছে লাল শাপলা। পাহাড়ঘেরা জলাভূমিতে ফুটে আছে সারি সারি শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে লাল শাপলার এই সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নে অবস্থিত হাজাছড়া শাপলা বিল। চারপাশে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, মাঝখানে বিস্তীর্ণ জলাভূমি আর পানির বুকে ফুটে থাকা লাল শাপলা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভোরের নীরবতা ভেঙে পাখির কলকাকলি আর পানিতে ফুটে থাকা শাপলার সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। এ সময় পানির ওপর ফুটে থাকা লাল শাপলা দেখতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ নৌকায় চড়ে কাছ থেকে উপভোগ করছেন শাপলার সৌন্দর্য।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, শাপলা বিলের পরিবেশ খুবই সুন্দর ও মনোরম। ভোরে পাখির কিচিরমিচিরের সঙ্গে পানিতে ফুটে থাকা লাল শাপলা দেখতে তার ভালো লাগে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তিনি প্রায়ই এখানে আসেন।
আজিজউদ্দিনের ভাষ্য, হাজাছড়া শাপলা বিলটি সত্যিই সুন্দর। রাস্তার পাশে হওয়ায় প্রতিদিন সকালে এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। দর্শনার্থীরা নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখেন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে শাপলা ফুলগুলো ফুটে থাকলে পাহাড়ের বুকে অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বিলটি পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এখানে পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জীবিকার নতুন পথ খুলবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হাজাছড়া শাপলা বিলকে ঘিরে পর্যটনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রমের কারণে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বিলের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




