চুয়াডাঙ্গায় আগাম জাতের বাঁধাকপিতে বিরল রোগ
- লোকসানের আশঙ্কায় জীবননগরের কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাঠে আগাম জাতের বাঁধাকপি চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ বাঁধাকপির ক্ষেত আক্রান্ত হচ্ছে এক বিরল রোগে। প্রথমে পাতা এবং পরে পুরো গাছ মরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘার ফসল। নানা ধরনের সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না এর প্রতিকার।
সবুজ পাতার আড়ালে পাতা মোড়ানো বাঁধাকপির হাসির বদলে উথলী গ্রামের ফসলের মাঠে এখন শুধু কৃষকদের হাহাকার। বেশি লাভের আশায় মাঠের পর মাঠ চাষ করা হয়েছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। তবে সে স্বপ্ন এখন বিরল এক রোগের গ্রাসে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এই বিরল রোগের আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো উপজেলা। ধারদেনা করে আগাম কপির চাষ করা কৃষকরা এখন বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাঠের এই মহামারী কতটা ঠেকানো যাবে, তা নিয়েই এখন শঙ্কায় জীবননগরের শত শত কপিচাষি। কৃষি বিভাগের সঠিক নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই শুধু বাঁচাতে পারে কৃষকের শেষসম্বল— এমনটিই মন্তব্য অনেকের।
ভুক্তভোগী কৃষক সাহাবুল ইসলাম বললেন, হঠাৎ করেই প্রথমে গাছের পাতা নষ্ট হতে শুরু করে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো গাছটিই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একের পর এক মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। তিন বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ করে বাঁধাকপি চাষ করেছিলাম। এখন সেগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বিক্রি করার উপযুক্ত নেই বলে সবই গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কৃষক শফি উদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের গ্রামের সবার কপি ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার কথা ছিল। হঠাৎ করে অজানা রোগে সব গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বছর আমাদের খরচের টাকাও আসবে না। যে যা বলেছে, সেই সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেছি; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ জানিয়েছেন, বর্ষায় একধরনের ছত্রাকের আক্রমণে গাছগুলো পচে গেছে। অনেকেই নিম্নমানের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেছেন। যে কারণে ভালো ফল আসেনি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আক্রান্ত জমি রক্ষায় কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার এবং সঠিক বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



