পদ্মার পানি বাড়ায় দুই জেলায় প্লাবন
- পানিবন্দি হাজারো পরিবার

সংগৃহীত ছবি
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই জেলার কয়েক হাজার পরিবার। ডুবে গেছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ঘরবাড়ির চারপাশে পানি জমে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।
পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানালেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে দ্রুত পানি বেড়েছে পদ্মায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির হার কমে ৩ সেন্টিমিটারে নেমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে প্লাবিত হয়েছে ১৭টির নিম্নাঞ্চল। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের মতে, এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানিতে বসতভিটা, রান্নার স্থান ও নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খামারিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানালেন, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ ও কলাচাষিরা।
পানি ওঠায় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দৌলতপুরের চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পদ্মার পানি বাড়ায় শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার।
পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান রয়েছে সাময়িক বন্ধ। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩৫০ হেক্টর আমন ধান ও সবজির জমি তলিয়ে গেছে পানিতে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও সহায়তা দেওয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল জানালেন, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্লাবিত এলাকায় সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে। পানির উৎসগুলো ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহে যেতে হচ্ছে দূরের এলাকায়। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীবের ভাষ্য, উজানের ঢলে পদ্মার পানি বেড়েছে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে পানি দ্রুত কমে আসার। এদিকে দুর্গত এলাকার মানুষ দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।



