বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, পলাতক আসামির যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত— সংগৃহীত
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের ঘটনায় পলাতক আসামি শ্যামল চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিতে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শ্যামল চন্দ্র দাস ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর কালোমেঘ পরিষদপাড়া গ্রামের কলেন চন্দ্রের ছেলে। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুটি ধারায় দেওয়া সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে। আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, পলাতক আসামি আত্মসমর্পণ করলে অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তার দণ্ড কার্যকর হবে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এক তরুণীকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিয়ে আসেন শ্যামল চন্দ্র দাস। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে নীলফামারীর ডোমারের চিলাহাটী এলাকার একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে ওই রাতেই অভিযুক্ত দুই দফায় তাকে ধর্ষণ করেন।
এর তিন দিন পর, ২৬ এপ্রিল ওই তরুণী গোপনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটকে রাখার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরদিন ২৭ এপ্রিল পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।





