শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আহত শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। ছবি: সংগৃহীত
হলের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠন।
তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র তারেক রহমান।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সিদ্ধান্তটি।
তাতে বলা আছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা।
মারধরের ঘটনাটি গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে। অভিযোগকারী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
তার ভাষ্য, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ জানিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রভোস্টকে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা তারেক তাকে ডেকে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। প্রভোস্টের কাছে তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
ওই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে খাইরুল নতুন করে অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর ও তারেক এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে হাসিবুর তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আশপাশের শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রভোস্ট কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। বিষয়টি বোঝানোর সময় খাইরুল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলে হাসিবুরের চশমা ভেঙে যায়। তার হাতে আঘাত লাগে এবং মোবাইল ফোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাউকে মারধরের নির্দেশ দেওয়া বা এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের মদদও তিনি দেননি।
তার ভাষ্য, হলের যেকোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেন। তার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।
ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।




