দেশে হাম বৃদ্ধির জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী : স্পিকার

সংগৃহীত ছবি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সময়মতো হামের টিকা আমদানি না করায় বহু শিশু অকালে মারা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন স্পিকার। ঈদ উপলক্ষে চার দিনের সফরে ভোলায় এসে নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমোহনে যাওয়ার আগে সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করেন তিনি।
হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্পিকারের ভাষ্য, ‘হাম রোধে যে টিকা সময়মতো আমদানি করা প্রয়োজন, এই প্রয়োজনটাই তারা অনুভব করেনি। যার ফলে বেশসংখ্যক শিশু অকালে মারা গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তবে হাম মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘বর্তমান সরকারের দক্ষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন। হামের টিকা আনার জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
এ সময় ভোলার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্পিকার। তিনি জানান, ভোলায় প্রচুর গ্যাস মজুদ রয়েছে। অথচ গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও জানান, ‘আমি শুনতে পেয়েছি ৩০ মেগাওয়াটের যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রয়েছে, সেটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব, যাতে দ্রুত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা যায়।’
লোডশেডিং নিয়ে তার বক্তব্য, ‘ভোলাবাসীকে যাতে আর লোডশেডিংয়ের ঝামেলা পোহাতে না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে স্পিকারের ভাষ্য, ‘সরকারি দল বাজেট দেবে, বিরোধী দল সমালোচনা করবে। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা ওয়েলকাম করব। আমি দেখব যাতে বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব আমি আগের সংসদে লক্ষ করেছি। এখনো আশা করি তাদের মধ্যে কো-অপারেশন থাকবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেই এমন একটি বাজেট উপহার দেবে, যাতে জনজীবনে আরও স্বাচ্ছন্দ্য নেমে আসে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্যাহ কাওছারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।






