আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা করে বের হচ্ছে স্থানীয়রা— সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চুরির মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে আসামি রিয়াজ ফকিরের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর একটি মিছিল থানায় ঢুকে হামলা চালালে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও মিছিলকারীদের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ডিউটি অফিসারসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন মিছিলকারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে থানা হাজতে রাখা হলে তিনি নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করেন বলে পুলিশের দাবি। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকালে তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) ছয়জন আহত হন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আহত কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে হামলায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও বাবা ছিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানান, আমাদের ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের বললেন, ‘চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে।’
তিনি মন্তব্য করেন, ‘থানায় হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





