‘রেকর্ড বৃষ্টিতেও চট্টগ্রাম পুরোপুরি ডোবেনি’ সমন্বয় সভায় সন্তোষ প্রকাশ

বৃহস্পতিবার বিকালে চসিকের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির সভা— সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চসিকের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির এক জরুরি সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভায় মেয়র জানান, গত শনিবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৯ মিলিমিটার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকাল তিনটা থেকে বুধবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত এক দিনেই বৃষ্টিপাত হয় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার, যা এযাবৎকালের একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ১৯৮৩ সালে ৪০৭ মিলিমিটার এবং ২০০৭ সালে ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল। যেখানে ২০০৭ সালের সেই বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১২৭ জন।
মেয়র বলছিলেন, ‘এমন নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতের পরও চট্টগ্রাম শহর পুরোপুরি বন্যাকবলিত হয়নি, এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি।’ জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে না নেওয়া গেলে এই পরিমাণ বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, চলতি বর্ষা মৌসুমে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনসহ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা।





