বেহেশতের টিকিট বিক্রেতারাই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে কথা বলেছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: আগামীর সময়
সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিতরাই নিজেদের কর্মীদের দিয়ে হইচই করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। জনগণের সরকারকে বিতর্কিত করতেই এ সংকট তৈরি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেছেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, মেহেরপুর ও নড়াইলে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এসব জেলার কয়েকটিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছেন, সেসব জেলাতেই সারের সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় সারের সংকট নেই। বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটেও সংকট নেই।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব জেলায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল ও গ্যাস নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও দাম সমন্বয় করে কমানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এটি আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া সমস্যা। এর সমাধানে সময় প্রয়োজন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অনির্বাচিত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায় ও সময় বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি ১১-দলীয় জোটের রংপুরে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, তেলের সংকট থাকলে লংমার্চে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক গাড়িতে তেল সরবরাহ হলো কীভাবে। লংমার্চের মাধ্যমে তেল ও গ্যাসের সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী বড়দরগা সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রংপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক সভায় যোগ দেন। বিকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। একই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে।




