যশোরে ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণসহ আটক ২

ছবি: আগামীর সময়
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে যশোরে প্রায় ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম স্বর্ণ, একটি প্রাইভেট কার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অভিযান বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শনিবার রাত ২টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালালে গাড়ির ভেতর থেকে ৩১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম, যার বাজারমূল্য ৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৫ টাকা। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাসিয়াল গ্রামের খন্দকার মাহাবুবুল হক (৪৫) এবং যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মো. আনিস (৩৬)।
স্বর্ণের বার ছাড়াও তাদের কাছ থেকে ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার, ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ হাজার ৮১৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মালামালের মোট বাজারমূল্য ৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ২১০ টাকা।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে খাঁটি স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার একটি চোরাকারবারি চক্রের কাছ থেকে তারা স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো যশোর হয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, ‘সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’




