কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

কমলগঞ্জের ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। ছবি: আগামীর সময়
অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ফসলের মাঠ।
স্থানীয়রা জানালেন, গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে মখাবিল, গোলের হাওর, ভাণ্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেতইগাঁও, ভানুবিল, ঘোড়ামারা গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ভাণ্ডারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর পদ্মা মেমোরিয়াল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক নির্বাচনী ও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নদীভাঙনের ফলে এসব বিদ্যালয়ের কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ধলাই নদীর মখাবিলের যে অংশ ভেঙেছে, তা অনেক আগে থেকেই ভাঙা ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে এত ক্ষতি হতো না। বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। আউশ ধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।
ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সবুজুর রহমান জানালেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটারের মতো ভেঙেছে। মানুষ কষ্টে আছে। এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেছেন, ‘বিএসএফের বাধায় মখাবিলের ভাঙা অংশটুকুর কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যেটুকু কাজ করা গেছে, তাই করা হয়েছে।’
কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বললেন, ‘বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু শুকনো খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্থদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’





