চিকিৎসকের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে আনা হচ্ছে রাজধানীতে। ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর জেরে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় হয়েছে মামলা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আকরাম এলাহি পালং মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম।
হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এরপর ‘চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন’- এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জন জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসক নাসিরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
হামলায় আহত হয়েছেন হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার। তারা ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তারের অভিযোগ, ‘রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। আমাদের চিকিৎসকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।’
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) ও জায়েদা বেগমকে (৬০)। গ্রেপ্তার আরেকজনের পরিচয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন জানালেন, চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ঘটনা তদন্তে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত- মন্তব্য জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে করলেন হুঁশিয়ার।




