টেন্ডার ছাড়াই হাসপাতালের গাছ বিক্রির অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারটি মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং প্রধান অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে গাছ বিক্রির মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের চারটি পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের যে বিধান রয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সম্পদের মূল্য নির্ধারণ এবং উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির নিয়ম রয়েছে। কিন্তু গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। তাদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। তাই এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয়।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন এবং প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) পঙ্কজ কুমার রায় যোগসাজশ করে গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অফিস সহকারী পঙ্কজ কুমার রায়। তিনি জানিয়েছেন, গাছ কেটে বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, গাছগুলো এলাকার কিছু মানুষের চুলায় চলে গেছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি এ হাসপাতালে যোগদান করেছেন। গাছ বিক্রির ঘটনাটি তার যোগদানের আগেই ঘটেছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, হাসপাতালে অতীতের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তিনি তথ্য পাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসব অনিয়ম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছেন।




