মৌলভীবাজার
চার কোটি টাকার সেতু চালুর অপেক্ষায় ১০ হাজার মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে লাঘাটা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। আর ডিসেম্বরের শেষ দিকে পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৬ জুলাই। প্রকল্পটির নির্ধারিত ব্যয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কসহ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। এত দিন সেতুর প্রবেশমুখে সংযোগপথ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপারে নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা ও বন্যার সময় শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
রাজনগর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি), ভোলা সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। আগামী নভেম্বর মাসে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে সেতুর কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাহবুব আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।
স্থানীয় কৃষক মনির উদ্দিন বলেন, সেতুটি চালু না থাকায় কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ আনা-নেওয়ার জন্য তাকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে যাতায়াত করতে হতো। সেতুটি চালু হলে নিজেরাই কৃষি উপকরণ নিয়ে আসতে পারবেন। এতে পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে।
স্থানীয় সিএনজিচালক রফিক বলেন, সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় গাড়ি নিয়ে নদীর অন্য পাড়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। সেতুটি চালু হলে গাড়ি নিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যাবে। এতে তাদের দৈনিক আয়ও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
মাহবুব আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ ইসলামপুর ছাড়াও খাস, প্রেমনগর, মিটিপুর, ভুলানগর, সামেরকোনা, জালালপুর, হাঠিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালাইকুনাসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।




