কালীকচ্ছ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
তরুণদের মাদকবিরোধী লড়াই

মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য সম্ভাবনাময় জীবন। শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতির পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মাদকের কারণে। এমন বাস্তবতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একদল উদ্যমী তরুণ গড়ে তুলেছে ‘কালীকচ্ছ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’।
‘মাদকমুক্ত তারুণ্য চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি অল্প সময়ের মধ্যেই মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মানবিক সেবার মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে ৩০০ সক্রিয় সদস্য নিয়ে সংগঠনটি কাজ করছে মাদক নির্মূল, রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে।
সংগঠনের উপদেষ্টা আজমল হোসেন ছোটনের ভাষায়, এটি শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি সামাজিক আন্দোলন। এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা মাদক নির্মূলে ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন।
মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সংগঠনটি। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শতাধিক অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধ করে আনা হয়েছে শৃঙ্খলার মধ্যে। শুধু মাদক ও অপরাধ দমন নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডেও অনন্য নজির স্থাপন করেছে কালীকচ্ছ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনের সদস্যরা ৭৯ মুমূর্ষু রোগীকে করেছেন রক্তদান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরে ঢাকা, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তারা দিয়েছেন এই মানবিক সেবা।
কালীকচ্ছের ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত ধর্মতীর্থ পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থীদের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে টাইলস বসিয়ে নামাজের স্থান নির্মাণ এবং ওজুর জন্য স্থাপন করা হয়েছে নলকূপও। ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক দেওয়ার মতো মানবিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও কালীকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিকের মতে, সংগঠনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো মাদকাসক্ত দুই যুবককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।
তিনি জানিয়েছেন, মাদকাসক্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া ওই দুই যুবককে সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে পাঠানো হয় তাবলিগ জামাতে। সে সময় তাদের পরিবারের সম্পূর্ণ ভরণ-পোষণের দায়িত্বও বহন করে সংগঠন। বর্তমানে তারা অটোরিকশা চালিয়ে নির্বাহ করছেন জীবিকা।
সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অর্থায়নও সদস্যদের নিজস্ব চাঁদার মাধ্যমে হয়ে থাকে। উপদেষ্টারা মাসিক ২০০ এবং সাধারণ সদস্যরা দেন ৫০ টাকা করে।
স্থানীয়রাও সংগঠনটির কার্যক্রমকে দেখছেন ইতিবাচকভাবে। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছায়েদ হোসেন বলেছেন, ‘সংগঠনটির সামাজিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে তারা কাজ করছে সমাজের কল্যাণে। তাদের কার্যক্রমে আমারও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’
সহকারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মুনির হোসেন ভূঁইয়া মনে করেন, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির রয়েছে শক্তিশালী ভূমিকা।




