চকরিয়ায় পচল ১১৫ হেক্টর বীজতলা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ভেস্তে দিয়েছে আমন আবাদের সব প্রস্তুতি। কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীর বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর বীজতলা। অনেক জায়গায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে চারা। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বীজসংকট। সময়মতো আমন আবাদ শেষ করা নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বন্যায় চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং মাতামুহুরীর সাতটি ইউনিয়নে ৯২৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে তৈরি করা হয়েছিল আমনের বীজতলা। এর মধ্যে চকরিয়ায় ৬৩ হেক্টর এবং মাতামুহুরীতে ৫২ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সরকারি হিসাবে চকরিয়ার প্রায় ৮০ এবং মাতামুহুরীর ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে দুই উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল; কিন্তু ১-১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও ছয় থেকে সাত ফুট পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষক।
বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক রশীদুল নবী চলতি মৌসুমে ১০৫ শতক জমিতে আমন আবাদ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্য ২০ শতক জমিতে উচ্চফলনশীল ব্রি-১১ ও ব্রি-২২ জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে পচে গেছে সব চারা। এখন তিনি নতুন করে ১৫ শতক জমি প্রস্তুত করছেন। তার ভাষায়, ‘সবকিছু শুরু করতে হচ্ছে নতুন করে। সময়ও গেল, খরচও বাড়ল।’
কৃষি কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন স্বল্পসময়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন। চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলামের ভাষায়, চলতি মৌসুমে বেশি বন্যা হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় পচে গেছে অধিকাংশ চারা। ফলে আমন আবাদ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে পড়েছে এবং এতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। অবশ্য কৃষকদের আবার বীজতলা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।




