নড়াইলে নারীদের নৌকাবাইচ ঘিরে হাজারো মানুষের মিলনমেলা

মতুয়া নারীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতায় ১৬টি নৌকার বাইচ দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছবি: আগামীর সময়
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নড়াইলে ‘জাতীয় নারী নৌকাবাইচ’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনকে ঘিরে গতকাল শনিবার বিকালে কাজলা নদীর পাড়ে হাজারো প্রাণের মিলনমেলা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া দুইদিনব্যাপী স্বাস্থ্যক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়।
লোকজ সংস্কৃতির আবহ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মেলবন্ধনে নড়াইলের প্রত্যন্ত অঞ্চল হাতিয়াড়া গ্রাম প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠে। মতুয়া নারীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতায় ১৬টি নৌকার বাইচ দর্শকদের মুগ্ধ করে। নৌকাবাইচের পাশাপাশি নদীতে নারীদের সারি গানের পরিবেশনাও ছিল অনবদ্য। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এই উৎসবের আয়োজন করে।
নড়াইলের মেয়েলি গীত
০১ নভেম্বর ২০২৬
দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুই, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলি, সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান, পরিচালক গনী উল আজম, নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম. রাহসিন কবির, সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার, গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, অলোকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি বনানী বিশ্বাস প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরাসহ গ্রামীণ পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নারী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র্র করে হাতিয়াড়া এলাকায় গ্রামীণমেলাও বসে।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের মুক্তা অধিকারীর নৌকা প্রথম স্থান, হাতিয়াড়া গ্রামের ববিতা সরকারের নৌকা দ্বিতীয় স্থান, রীনা বিশ্বাসের নৌকা তৃতীয় স্থান এবং মালিয়াটের চম্পা গোস্বামীর নৌকা চতুর্থ স্থান লাভ করেছে। সন্ধ্যায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




