রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটি) সুমনের শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভবন-সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন তারা।
এতে বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
মারধরের শিকার ফুরকান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে টিটি সুমন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এতে তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন।
ফুরকান উদ্দিনের ভাষ্য, ‘টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এর প্রতিবাদ করেছি। এরপর পেছন থেকে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
ঘটনার পর ফুরকান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে এক রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও লেখেন, এর আগেও রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। অবরোধস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাদের এক সহপাঠীকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্তের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকাল ৭টার ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টার সিল্কসিটি এক্সপ্রেসও স্টেশনে অপেক্ষা করছে। সময় যত গড়াবে, ট্রেন চলাচলের সূচিতে তত বেশি বিপর্যয় তৈরি হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত টিটিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার দাবি জানাচ্ছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।





