বরিশালে কোস্ট গার্ডের জাহাজের ধাক্কায় বাল্কহেডে ফাটল, ডুবল ২ স্পিডবোট

সংগৃহীত ছবি
বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ গমবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা দিয়েছে। জাহাজটির ধাক্কায় দুটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এতে বাল্কহেডটির তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন আটটি বোট এবং কয়েকটি সরকারি স্পিডবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বাল্কহেড থেকে গম সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বরিশাল ডিসি ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেড ডিবি পাপিয়ার ইনচার্জ মানিক হোসেন বলেন, কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গমবাহী বাল্কহেডে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডের তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় কার্গোতে থাকা কর্মীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাল্কহেডটি ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
বরিশাল জেলা স্পিডবোট মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘বিসিজিএস স্বাধীন বাংলা’ নামে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ বরিশাল জেটি থেকে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। যাওয়ার পথে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানির চাপে স্পিডবোটগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। এমনকি কোস্ট গার্ডের অন্য একটি জাহাজের ওপরও ধাক্কা লাগে। একপর্যায়ে জাহাজটি সজোরে বাল্কহেডে ধাক্কা দেয়। এতে বাল্কহেডের তলা ফেটে প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন বাল্কহেডে থাকা গম উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় তাদের দুটি স্পিডবোট ডুবে গেছে এবং আটটি স্পিডবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ডুবে যাওয়া দুটি স্পিডবোট উদ্ধার করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, ৩০০ মেট্রিক টন গমবোঝাই বাল্কহেডটি খুলনা সাইলো থেকে বরিশালে এসেছিল। বরিশাল খাদ্য বিভাগের জেটিতে গম খালাসের অপেক্ষায় থাকাকালে সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিকেল নাগাদ বাল্কহেড থেকে বস্তাভর্তি গমের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ বলেন, সকালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এটি দুর্ঘটনা হলেও এর জন্য কারা দায়ী, তা তদন্ত করে দেখা হবে। আপাতত গম উদ্ধারই তাদের মূল লক্ষ্য। ফায়ার সার্ভিস বাল্কহেড থেকে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে। সব গম উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পানিতে কিছু গম নষ্ট হয়েছে। কোন জাহাজ ধাক্কা দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নন।
এদিকে দুর্ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।




