নয়াবাড়ি মৌজাতেই দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর চায় এলাকাবাসী

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা ভেঙে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর গেজেটভুক্ত নয়াবাড়ি মৌজাতেই স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন মানববন্ধনটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কান্দিপাড়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় পুরো এলাকা মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। পরে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট থেকে শুরু হয়ে নয়াবাড়ি গ্রামের প্রস্তাবিত উপজেলা সদর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আনছার উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পাগলা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির এবং পাগলা থানা জাসাসের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা দাবি করেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কমিটি দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নয়াবাড়ি মৌজাতেই উপজেলা সদর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের দোসরদের ভুল তৎপরতার কারণে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা গেজেট অনুযায়ী নয়াবাড়ি মৌজাতেই উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম বৈঠকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, লংগাইর, নিগুয়ারী, দত্তেরবাজার ও টাঙ্গাব ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নবগঠিত উপজেলার সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পাগলা ও পাঁচুলী গ্রামের মাহবুবুর রহমান ফোরকানসহ আটজন পাগলা থানা ভবনের আশপাশে উপজেলা সদর স্থাপনের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদর স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।






