‘রাতভর রান্না করি, দিনভর ঝিমাই’

ফাইল ছবি
‘গ্যাস আসে রাতে। তাই রাতেই রান্না করতে হয়। রাতভর রান্না করি, দিনভর ঝিমাই। প্রতি মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা করে বিল দিই, কিন্তু গ্যাস পাই না’— ক্ষোভের সুরে বলছিলেন স্কুলশিক্ষিকা রেহানা আক্তার।
একই অভিযোগ সিনিয়র সাংবাদিক নজির আহাম্মদের। তিনি বললেন, ভোরে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস আসে। এরপর চলে যায়। সারা দিন আর গ্যাস থাকে না। আসে রাত ১১টার পর। তাই রাতেই সারতে হচ্ছে রান্নার কাজ।
নজির আহাম্মদ থাকেন ফেনী শহরের পেট্রোবাংলা এলাকায়। এটি ফেনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এই ওয়ার্ডে বাখরাবাদ গ্যাসের গ্রাহক আছেন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। কিন্তু কেউই ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না।
এই অভিযোগ শুধু রেহানা আক্তার ও নজির আহাম্মদের নয়, একই অভিযোগ ফেনী পৌর এলাকার প্রায় সব গ্রাহকের।
স্থানীয়রা জানান, পৌর এলাকার পেট্রোবাংলা, সহদেবপুর, মাস্টারপাড়ার একাংশ এবং ফেনী সদরের কালিদহ ইউনিয়নের তুলাবাড়িয়া, চেওরিয়া, আরামবাগ, লালপুল, কালিদাস, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা, তেমুহনী ও পার্শ্ববর্তী জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহিগোবিন্দ এলাকার পাঁচ থেকে ছয় হাজার গ্রাহক গত কয়েক বছর ধরে ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না।
মাথিয়ারা এলাকার গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, মাঝে মাঝে খুব সামান্য পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যায়। এতে রান্না করা যায় না। তাই বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারের ব্যবস্থা রাখতে হয়েছে। একই চিত্র পাশের এলাকা বারাহিগোবিন্দেও। এখানে অনেকেই গ্যাসচুলার পাশাপাশি ব্যবহার করছেন মাটির চুলা।
‘বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ও মাটির চুলা— দুটোই রাখতে হচ্ছে। কখনো মেহমান এলে কষ্ট হয়ে যায়। গ্যাসের অভাবে কোনোমতে এক তরকারি দিয়ে খাবার সারতে হচ্ছে’— বললেন গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে শিল্পকারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন বলেন, চাপ কমে যাওয়ায় তাদের মুড়ি কারখানার উৎপাদন অনেকটাই বন্ধের পথে। এ ছাড়া স্টার লাইন সিএনজি স্টেশনের দুটি ইউনিট থেকেও ঠিকমতো চালকদের গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
ফেনী সদরের কাজীরবাগ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. মামুন বললেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না। তাই সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। অনেকেই গাড়ি বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে দিয়েছেন।
বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের ফেনী অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কিরণ চন্দ্র রায় গ্যাসসংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে আমরা বিভিন্ন এলাকায় সঞ্চালন লাইন মেরামত ও পরিষ্কারের কাজ করছি। এ কাজ চলমান রয়েছে। লাইনগুলো পরিষ্কার হয়ে গেলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে।’





